দক্ষিণ মেরু’র বরফ গলে বেরিয়ে আসছে প্রাচীন রোগ!

0
22

জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার খবর এখন পুরনো। ক্রমাগত বরফ গলতে থাকায় হিমবাহগুলোতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। সমুদ্রের উচ্চতাও এরই মধ্যে কিছুটা বেড়ে গেছে। অবশ্য দীর্ঘদিন বরফের নিচে যে সব রহস্য অজানা ছিল, মানুষের জন্য তার সমাধানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলছেন, দক্ষিণ মেরুতেও অতীতে মানুষ সভ্যতা স্থাপন করে থাকতে পারে। যা বর্তমানে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

বিজ্ঞানীরা ইতিবাচক চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে নেতিবাচক নানা বিষয় নিয়েও চিন্তিত। সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী আশঙ্কা জানিয়ে বলেছেন, বরফ গলে হারানো সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীন রোগও বের হয়ে আসতে পারে।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ভাইরাস আর ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সুস্থ থাকার জন্য গবেষকেরা যুগে যুগে প্রকৃতির মধ্য থেকে সেসব রোগের প্রতিষেধক আবিস্কার করেছেন। প্রাচীনকালে নানা রোগের কথা ইতিহাসের মাধ্যমে জানা যায়, যেসব রোগের কারণে কখনও কখনও সভ্যতাই শেষ হয়ে গেছে। আবার সভ্যতা ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে সে সব রোগও হারিয়ে গেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। অথবা বলা যায়, সে সব রোগও মাটির তলে চাপা পড়েছে।

তেমনই কিছু জীবাণু মেরু অঞ্চলে বরফের নিচে চাপা থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে হিমবাহের বরফ গলতে থাকায় সে সব ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস আবারও পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বরফের নিচে সুপ্ত অবস্থায় থাকা সেসব ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। কেননা সেসব রোগের প্রতিষেধক আবিস্কার করার আগে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে যাবে। তাই এই বিষয়ে গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

উদাহরণ হিসেবে অ্যানথ্রাক্সের কথাও বলেন বিজ্ঞানীরা। বহু পুরনো এই রোগ আবারও দেখা দিলে গবাদি পশু তো বটেই মানুষের মাঝেও তা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অনেকে। আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফের মধ্যে স্মলপক্সের সুপ্ত জীবাণু তারা খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোনাথান রাইস জানিয়েছেন, আলাস্কার একটি জলাধারে ৩২ হাজার বছরের পুরনো ব্যাকটেরিয়াও পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া যে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় তা কিন্তু নয়। কখনও কখনও ধ্বংসের শেষ প্রান্তে গিয়েও তারা টিকে থাকতে পারে। তাছাড়া প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সুপ্ত অবস্থায় থাকার অসাধারণ গুন রয়েছে কিছু ভাইরাসের। কাজেই দক্ষিণ মেরুর বরফ গলে যাওয়ার অর্থ রোগের প্যানডোরার বাক্স খোলার মত বিষয় হিসেবে দাঁড়াতে পারে। এমনকি তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে মানব সভ্যতার জন্যও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here